সিলেটের ঐতিহাসিক হজরত শাহজালাল (রহ.) মাজারের দানবাক্সে সংগৃহীত অর্থ আজ শনিবার (১১ জুলাই) পুনরায় প্রকাশ্যে গণনা করা হচ্ছে। মাত্র ১৯ দিনের ব্যবধানে দ্বিতীয়বারের মতো এই অর্থ গণনার কার্যক্রম সকাল ১০টায় মাজার প্রাঙ্গণে শুরু হয়েছে। গত ৯ জুলাই মাজারের সার্বিক ব্যবস্থাপনা ও উন্নয়ন সংক্রান্ত কমিটির প্রথম সভায় এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
এর আগে গত ২২ জুন সিলেটের তৎকালীন জেলা প্রশাসক সারওয়ার আলম দীর্ঘ ৭০০ বছরের প্রচলিত প্রথা ভেঙে প্রথমবারের মতো মাজারের টাকা প্রকাশ্যে গণনার উদ্যোগ নিয়েছিলেন। মাজারের আয়-ব্যয়ের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে তিনি গত ১৮ জুন চারটি নতুন দানবাক্স স্থাপন করেন এবং পুরনো তিনটি ডেগ ও একটি দানবাক্স সিলগালা করে দিয়েছিলেন। ওই ঘটনার পর সারা দেশে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হলে গত ২১ জুন জেলা প্রশাসক সারওয়ার আলমকে প্রত্যাহার করা হয়।
পরবর্তীতে গত ২৬ জুন মাজারের আর্থিক ব্যবস্থাপনায় আরও শৃঙ্খলা আনতে ১১ সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করেন বাণিজ্য, শিল্প, বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। গত বৃহস্পতিবার সিলেট সার্কিট হাউসে অনুষ্ঠিত কমিটির বৈঠক শেষে সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী জানান যে, মাজার কর্তৃপক্ষ, কমিটির সদস্য, মাদরাসা শিক্ষার্থী এবং গণমাধ্যমকর্মীদের উপস্থিতিতে সম্পূর্ণ স্বচ্ছতার সঙ্গে এই অর্থ গণনার কার্যক্রম পরিচালিত হবে। গণনাকৃত সকল অর্থ পরবর্তীতে জেলা প্রশাসকের নামে নির্ধারিত একটি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা রাখা হবে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে মাজারের আর্থিক ব্যবস্থাপনায় একটি আধুনিক ও কার্যকর কাঠামো গড়ে উঠবে বলে আশা করা হচ্ছে।
ছবি: সংগৃহীত
গাজীপুর মেট্রোপলিটন এলাকায় অপরাধ নিয়ন্ত্রণে কঠোর অবস্থানে রয়েছে পুলিশ। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত এই ছয় মাসে মেট্রোপলিটন এলাকায় ৮৪২টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এর মধ্যে মাদকের মামলার সংখ্যাই সর্বোচ্চ ৩৯৭টি।
এক সংবাদ সম্মেলনে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ (জিএমপি) অপরাধ দক্ষিণ বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মহিউদ্দিন আহমেদ সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এসব তথ্য জানায়।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, গত ছয় মাসে পুলিশ ১০টি হত্যা, ২০টি ডাকাতি, ২০টি ছিনতাই, ৬৬টি নারী ও শিশু নির্যাতন এবং ২৮টি অস্ত্র মামলা রেকর্ড করেছে। অভিযানে ১টি বিদেশি পিস্তলসহ বিপুল পরিমাণ দেশীয় অস্ত্র ও গুলি উদ্ধার করা হয়েছে। শুধু চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসেই ৮৮২ জন ছিনতাইকারীকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
তিনি জানান, সম্প্রতি গাজীপুরা জ্বিলানি মার্কেট এলাকায় সংঘটিত ছিনতাইয়ের ঘটনা চিহ্নিত দুই ছিনতাইকারী জাহিদ দেওয়ান (২৬) ও কামাল হোসেনকে (২৬) গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের কাছ থেকে দুইটি ধারালো দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, মহানগর এলাকায় নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগের ঝটিকা মিছিলের চেষ্টায় ৩টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এ ঘটনায় ইতোমধ্যে ১৯ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং জড়িত অন্যদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
মাদক ও কিশোর গ্যাং নির্মূলে তিনি বলেন, মাজার বস্তি, কেরানীর টেক, ব্যাংকের মাঠ ও এরশাদ নগরসহ বিভিন্ন এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযান জোরদার করা হয়েছে। এছাড়া কিশোর গ্যাং নিয়ন্ত্রণে তথ্য সংগ্রহের পাশাপাশি তাদের নির্মূলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে পুলিশ। সম্প্রতি টঙ্গী পূর্ব এলাকায় আধিপত্য বিস্তার ও মহড়ার ঘটনায় ১৮ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
অপরাধ দমনে তারা জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করছেন। জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশের এ কার্যক্রমে নাগরিকদের সচেতনতা ও সহায়তা কামনা করা হয়েছে।
ছবি: সংগৃহীত
অবশেষে দুই পাশে সংযোগ সড়ক হলো জামালপুরের সরিষাবাড়ীর ঘুইঞ্চার চরের কোটি টাকার ব্রিজে। নির্মাণের ২ বছরেও রাস্তা না থাকায় ব্রিজটি কোনো কাজেই আসছিল না চরাঞ্চলের মানুষের। ফলে ব্রিজ হলেও দীর্ঘদিন ধরে চলাচলে পোহাতে হতো নানা দুর্ভোগ ও ভোগান্তি। বর্তমানে ব্রিজের দুইপাশে সংযোগ সড়ক হওয়ায় খুশি এ চরাঞ্চলের মানুষ।
জানা যায়, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের উদ্যোগে ‘গ্রামীণ রাস্তায় সেতু কালভার্ট নির্মাণ প্রকল্পের আওতায় ২০২৩-২৪ অর্থবছরে উপজেলার আওনা ইউনিয়নের দুর্গম চরাঞ্চল ঘুইঞ্চার চরে যমুনা নদীর শাখা অংশের উপর ১ কোটি ১৪ লাখ টাকা ব্যয়ে ১৫ মিটার দৈর্ঘ্যের গার্ডার ব্রিজ নির্মাণ করা হয়। নির্মাণের ২ বছর হলেও দুই পাশে কোনো সংযোগ সড়ক না থাকার কারণে স্থানীয়দের কোনো কাজেই আসছিল না ব্রিজটি। ফলে চলাচলে নানা দুর্ভোগ ও ভোগান্তি পোহাতে হতো। বিশেষ করে কৃষিপণ্য সরবরাহ ও স্কুল কলেজগামী শিক্ষার্থীদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হতো। এ ছাড়া বন্যা মৌসুমে গামছা পড়ে নদী সাঁতরে পার হতে হতো বলে জানিয়েছে স্থানীয়রা।
বিষয়টি জানার পর স্থানীয় সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সভাপতি ফরিদুল কবির তালুকদার শামিম এমপির নির্দেশনায় উপজেলা নির্বাহী অফিসার আফরোজা আফসানা ও প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা শওকত জামিলের তত্ত্বাবধানে ব্রিজের দুই পাশে করা হয় ১ হাজার ৮০০ ফুট সংযোগ সড়ক। ফলে দীর্ঘদিনের চলাচলের চরম ভোগান্তি ও দুর্ভোগ থেকে রক্ষা পেল স্থানীয়রা।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার আফরোজা আফসানা বলেন, ‘বিষয়টি জানার পর সরেজমিনে তদন্ত করে এমপি মহোদয়ের সাথে কথা বলে রাস্তা করে দেওয়া হয়। এখন মানুষ ওই ব্রিজ দিয়ে চলাচল করতে পারে।’
ছবি: সংগৃহীত
খুলনা নগরীর চাঞ্চল্যকর আরফানা হোসেন নির্জনা হত্যাকাণ্ডের রহস্য ৩৬ ঘণ্টার মধ্যে উদঘাটন করেছে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ (কেএমপি)। শনিবার (১১ জুলাই) সকালে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের সদর দপ্তরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ জাহিদুল হাসান হত্যাকাণ্ডের বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন।
তিনি জানান, ঘটনার ৩৬ ঘণ্টার মধ্যেই পুলিশের একটি আভিযানিক দল নির্জনার মা আরিফা ইয়াসমিন সীমাকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়। নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ে তিনি স্বীকার করেন যে, মেয়ের সাথে বিভিন্ন ছেলেদের প্রেমের সম্পর্ক থাকার কারণে পারিবারিক কলহের সৃষ্টি হয় এবং এই কলহকে কেন্দ্র করেই তাদের একমাত্র মেয়েকে হত্যা করা হয়।
মা এর জবানবন্দি থেকে জানা যায়, ঘটনার দিন বিকেলে পরিবারের সাথে নির্জনার বাকবিতণ্ডা হয়। এক পর্যায়ে মা তাকে কয়েকটি চড়-থাপ্পড় মারেন। ঘরের ভেতর শোরগোল শুনে বাবা আলীম হোসেন আকাশ সেখানে এসে তাদের চুপ করতে বলেন। কিন্তু মেয়ে শান্ত না হওয়ায় একটি কাঠের চলা দিয়ে তার মাথায় আঘাত করা হয়, যার ফলে ঘটনাস্থলেই নির্জনার মৃত্যু হয়। হত্যাকাণ্ডের পর বাবা ও মা মিলে মেয়ের লাশ একটি প্লাস্টিকের বস্তায় ভরে এবং ছেঁড়া লুঙ্গি দিয়ে পেঁচিয়ে বাবা মোটরসাইকেলে করে নিরালার প্রান্তিকা আবাসিক এলাকার একটি নিরিবিলি রাস্তায় ফেলে রেখে আসে।
মায়ের জবানবন্দি থেকে জানা যায়, পরিবারের ইচ্ছার বিরুদ্ধে তেরখাদা আজগড়া এলাকায় একটি ছেলের সাথে তার বিয়ে করায় তারা ক্ষুব্ধ ছিল। শ্বশুর বাড়িতে যাওয়ার জন্য ওই দিন সকালে মেয়েটি বাড়ি থেকে বের হয়। পরবর্তীতে তাকে বুঝিয়ে বাড়িতে ফিরে আনা হয়। বিকেলে এঘটনা ঘটে।
গত ৮ জুলাই রাতে ওই স্থান থেকে বস্তাবন্দি অবস্থায় নির্জনার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। সুরতহালকারী পুলিশ কর্মকর্তা এসআই লাভলী পাল জানান, নির্জনার মাথার ডান ও বাম পাশে আঘাতের গভীর ক্ষত ছিল এবং গলায় কালো দাগ পাওয়া গিয়েছিল। মরদেহ উদ্ধারের পর পুলিশ গত শুক্রবার সদর থানায় মামলা দায়ের করে। গত শুক্রবার মহানগর হাকিম ইব্রাহীম খলিল মুহিমের আদালতে নির্জনার মা আরিফা ইয়াসমিন সীমা দায় স্বীকার করে জবানবন্দি প্রদান করেন এবং এরপর তাকে জেলহাজতে পাঠানো হয়।
তদন্তকারী কর্মকর্তাদের ভাষ্যমতে, নিহতের বাবা মো. আলীম হোসেন আকাশ ঘটনার পর থেকেই পলাতক রয়েছেন এবং তাকে গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত আছে। এর আগে গত বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সংবাদ পেয়ে নির্জনার মা খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে গিয়ে মেয়ের লাশ শনাক্ত করেন। ওই সময় তিনি দাবি করেছিলেন, বাড়ি ছাড়ার আগে তার মেয়ে একটি চিঠি লিখেছিল, যাতে লেখা ছিল—‘আমার কোনো খোঁজখবর তোমরা নিও না’।
এদিকে, বাবা আলীম হোসেন আকাশ পলাতক থাকলেও ফেসবুকের মাধ্যমে তিনি বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়াচ্ছেন। তিনি একটি স্ট্যাটাসের মাধ্যমে প্রমাণ করতে চেয়েছেন যে তার মেয়ে স্বেচ্ছায় ঘর থেকে চলে গিয়েছিল এবং এর সপক্ষে একটি চিঠিও প্রকাশ করেন। তবে পুলিশ জানায়, চিঠির সত্যতা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। যেদিন রাতে নির্জনার লাশ পাওয়া যায়, ঠিক সেই সময়েই তার বাবার ফেসবুক আইডি থেকে একটি স্ট্যাটাস দেওয়া হয়, যেখানে লেখা ছিল—‘নিশ্চয়ই আল্লাহর কোনো পরিকল্পনা আছে, সকল কষ্ট এবং দুঃখে আলহামদুলিল্লাহ’।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আলীম হোসেন আকাশের প্রোফাইল ঘেঁটে দেখা যায়, তিনি নিয়মিত টিকটকার হিসেবে সক্রিয় ছিলেন এবং স্ত্রী-সন্তানকে নিয়ে বিভিন্ন টিকটক ভিডিও তৈরি করে ইউটিউব চ্যানেলে আপলোড করতেন। তিনি নিজেকে কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ার ও ব্যবসায়ী হিসেবে দাবি করলেও তার পেশার বিষয়টি এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ জাহিদুল হাসান জানান, প্রাথমিক তদন্তে তাদের ধারণা নির্জনার বাবা একজন মাদকাসক্ত। বর্তমানে পলাতক বাবাকে খুঁজে বের করতে পুলিশ বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালাচ্ছে।
এদিকে খুলনায় এমন চাঞ্চল্যকর ঘটনায় জনমনে তৈরি হয়েছে বিভিন্ন প্রশ্ন ও রহস্য। বিশেষ করে বাবা-মায়ের একমাত্র সন্তান হিসেবে কি করে তারা তাদের সন্তানকে হত্যা করতে পারে এমন প্রশ্ন করছেন অনেকে। খুলনায় এমন ঘটনা এই প্রথম বলেও মনে করছেন অনেকে।
ছবি: সংগৃহীত
টানা কয়েকদিনের অবিরাম বর্ষণ এবং উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের পানিতে সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার ধারারগাঁও-মাইজবাড়ী সড়কের বিভিন্ন অংশ তলিয়ে গেছে। সড়কের একাধিক স্থানে ভাঙন, দেবে যাওয়া ও মাটি সরে যাওয়ার ঘটনায় এলাকার হাজারো মানুষ চরম দুর্ভোগ ও ভোগান্তির মধ্যে পড়েছেন। বিশেষ করে শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী, কৃষক, শ্রমজীবী ও ব্যবসায়ীদের চলাচল ব্যাহত হচ্ছে।
জানা যায়, প্রায় দুই কিলোমিটার দীর্ঘ ধারারগাঁও-মাইজবাড়ী সড়কটি এলাকার মানুষের সুনামগঞ্জ শহরের সঙ্গে যোগাযোগের একমাত্র স্থলপথ। এর মধ্যে প্রায় আধা কিলোমিটার এখনো কাঁচা রয়েছে। সম্প্রতি ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের পানির চাপে সড়কের পাঁচটি স্থানে হাঁটু থেকে কোমরসমান পানি জমে গেছে। কোথাও কোথাও পাকা অংশ দেবে গেছে, আবার অনেক স্থানে ভাঙন ও খানাখন্দের সৃষ্টি হয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, সড়কের বিভিন্ন অংশ পানিতে ডুবে থাকায় মানুষ পায়ে হেঁটে কাদা ও পানি মাড়িয়ে শহরমুখী হচ্ছেন। কেউ কেউ নৌকায় যাতায়াত করছেন। অনেক শিক্ষার্থী বিদ্যালয়ে যেতে পারছে না। সড়কের দুপাশের বাড়িঘরের বারান্দা পর্যন্ত পানি উঠে গেছে।
অবসরপ্রাপ্ত সার্জেন্ট মো. মুনায়েম বলেন, ‘এটি আমাদের এলাকার মানুষের একমাত্র সড়কপথ। বছরে প্রায় ১০ মাস আমরা এই রাস্তা ব্যবহার করি। কিন্তু কয়েকদিনের বৃষ্টিতেই সড়কের উপর হাঁটু থেকে কোমরসমান পানি উঠেছে। অনেক জায়গায় রাস্তা দেবে গেছে ও ভেঙে পড়েছে। ধোপাখালি খাল, নদী এবং আশপাশের বিল ভরাট হয়ে যাওয়ায় পানি দ্রুত নামতে পারছে না। খাল ও জলাধার খনন এবং সড়ক সংস্কার জরুরি।
ধারারগাঁও গ্রামের মরিয়ম বেগম বলেন, ‘রাস্তার উপর পানি থাকায় চলাচল করতে খুব কষ্ট হচ্ছে। বাচ্চারা স্কুলে যেতে পারছে না। চারদিকের পানি এসে ঘরের বারান্দা পর্যন্ত উঠেছে।’
স্থানীয় বাসিন্দা ইদ্রিস আলী বলেন, ‘ধোপাখালি খাল দিয়ে আসা পানি বিল-হাওরে জমে উপচে সড়কের উপর উঠছে। সড়কটি অনেক নিচু হয়ে গেছে। ভাঙনও রয়েছে। আমরা কার্যত পানিবন্দি অবস্থায় আছি।’
আবহাওয়া অধিদপ্তর ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের সাম্প্রতিক তথ্যানুযায়ী, উত্তর-পূর্বাঞ্চলে ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকায় নিম্নাঞ্চলে জলাবদ্ধতা ও স্বল্পমেয়াদি বন্যার ঝুঁকি রয়েছে।
স্থানীয়দের দাবি, শুধু জরুরি সংস্কার নয়, ভবিষ্যতে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় সড়কটির উঁচু করে চলাচলের উপযোগী করে দিতে হবে।
ছবি: সংগৃহীত
ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে মাগুরা প্রেসক্লাবের পৃষ্ঠপোষকতায় শহরের নোমানী ময়দানে শুক্রবার (১০ জুলাই) বিকালে প্রেসক্লাব মার্কেটের উত্তর ও দক্ষিণ ফুটবল দলের এক প্রীতি ফুটবল ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়েছে। খেলায় অংশগ্রহণ করেছেন প্রেসক্লাব মার্কেটের সকল দোকান মালিক ও কর্মচারীরা।
খেলার প্রথমার্ধে উভয় দল আক্রমণ পাল্টা আক্রমণ চালাতে থাকে। খেলার প্রথমার্ধের ১৬ মিনিটে উত্তর ফুটবল দলের চৌকস খেলোয়াড় হামিম একটি গোল করে দলকে এগিয়ে নিয়ে যায়। পরে একই দলের খেলোয়াড় জিতু পরপর দুটি গোল করে। গোলের পর দক্ষিণ ফুটবল দলের খেলোয়াড় বিপক্ষ দলের দিকে চরম আক্রমণ করতে থাকে। এই মুহূর্তে দক্ষিণ ফুটবল দলের খেলোয়াড় নাঈম পরপর দুই গোল করে দলকে আরও এগিয়ে নিয়ে যায়। খেলার দ্বিতীয়ার্ধে উভয় দল কোনো গোল করতে সক্ষম হয়নি। নির্ধারিত খেলার শেষে প্রেসক্লাব উত্তর ফুটবল দল ৩-২ গোলের ব্যবধানে বিজয়ী হয়।
খেলা শেষে মাগুরা প্রেসক্লাবের সভাপতি অধ্যাপক সাইদুর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম শফিক বিজয়ী ও রানার্স আপ দলের হাতে ট্রফি তুলে দেন। এ সময় প্রেসক্লাব মার্কেটের সভাপতি মো. কবির হোসেন, মাগুরা প্রেসক্লাবের যুগ্ম সম্পাদক মাসুম বিল্লাহ কলিন্স, দপ্তর সম্পাদক শেখ ইলিয়াস মিথুন, ক্রীড়া সম্পাদক শাহিন আলম তুহিন, সিনিয়র সাংবাদিক ওয়ালিয়র রহমান, মোহাম্মদ সাইফুল্লাহ, সঞ্জয় রায় চৌধুরী, আলিমুজ্জামান উজ্জ্বল, আবু সেলিম প্রমুখ।
খেলায় ধারাভাষ্য প্রদান করেন মাগুরা প্রেসক্লাবের সাংবাদিক মিনারুল ইসলাম জুয়েল।
খেলার আয়োজকরা বলেন, ‘শরীর সুস্থ ও কর্মক্ষম রাখতে এবং মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে খেলাধুলার কোনো বিকল্প নেই। খেলাধুলা মানসিক প্রবৃত্তিগুলোকে জাগ্রত করে। ব্যবসা বা অন্যান্য কাজের ফাঁকে একটু বিনোদনের প্রয়োজন আছে। যেকোনো কাজের পাশাপাশি খেলাধুলা বা বিনোদনের আয়োজন থাকলে কাজে উৎসাহ উদ্দীপনা দ্বিগুণ বেড়ে যায়। তা ছাড়া এ আয়োজনের মধ্য দিয়ে বিভিন্ন দোকান মালিক এবং কর্মচারীদের মধ্যে একটি হৃদ্রতার বন্ধন তৈরি হয়। তাই বিভিন্ন সময় খেলাধুলার আয়োজন করতে হবে। আগামীতে এ ধরনের আয়োজন অব্যাহত থাকবে।’
প্রেসক্লাবের এই আয়োজন স্থানীয় ব্যবসায়িকদের মধ্যে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।
ছবি: সংগৃহীত
ইসলামী ফাউন্ডেশন ফরিদপুর জেলা কার্যালয়ের উদ্যোগে পরিচালিত ‘দারুল আরকাম ইসলামী শিক্ষা পরিচালনা ও সুসংহতকরণ’ শীর্ষক প্রকল্প এবং নৈতিকতা ও ধর্মীয় মূল্যবোধ উন্নয়নে মসজিদভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রম প্রকল্পের আওতায় শিক্ষকদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার (১১ জুলাই) ফরিদপুর জেলা মডেল মসজিদ ও ইসলামী সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের মিলনায়তনে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ফরিদপুর-৩ সদর আসনের সংসদ সদস্য চৌধুরী নায়াব ইউসুফ আহমেদ।
ইসলামী ফাউন্ডেশন ফরিদপুরের উপপরিচালক মোহাম্মদ ইয়াছিন মোল্যার সভাপতিত্বে এ সময় যশোর শিক্ষা বোর্ডের সাবেক চেয়ারম্যান ও জাতীয় দৈনিকের সম্পাদক প্রফেসর এ বি এম সাত্তার, প্রবীণ শিক্ষাবিদ ও সমাজসেবক অধ্যাপক এম এ সামাদ, ময়েজ মঞ্জিল জামে মসজিদের ইমাম ও খতিব মাওলানা কবির আহমাদ, ফরিদপুর জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক তানভীর চৌধুরী রুবেল, ‘মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মিজানুর রহমান মিনান, শহর বিএনপির সাবেক সভাপতি মো. রেজাউল ইসলাম, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও সমাজসেবক হারুনর রশিদ সিদ্দিকীসহ ইসলামী ফাউন্ডেশনের কর্মকর্তা, প্রকল্পসংশ্লিষ্ট শিক্ষক ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
সভায় দারুল আরকাম ইসলামী শিক্ষা পরিচালনা ও মসজিদভিত্তিক শিক্ষা কার্যক্রমের মানোন্নয়ন, শিক্ষকদের দায়িত্বশীলতা বৃদ্ধি, শিক্ষার্থীদের নৈতিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধ বিকাশ এবং আধুনিক ও কার্যকর শিক্ষাদান পদ্ধতি নিয়ে আলোচনা করা হয়।
বক্তারা বলেন, ‘ধর্মীয় শিক্ষার পাশাপাশি নৈতিক শিক্ষা বিস্তারে শিক্ষকদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ ধরনের মতবিনিময় সভা শিক্ষা কার্যক্রমকে আরও গতিশীল ও ফলপ্রসূ করতে সহায়ক হবে।’
সভা শেষে এক বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করা হয়। দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করেন জেলা মডেল মসজিদ ও ইসলামী সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের খতিব হাফেজ মাওলানা মো. তবীরুর রহমান।
ছবি: সংগৃহীত
দুই বছর আগে অপহরণের পর হত্যা করে মরদেহ গুম করা হয়েছে এমন অভিযোগে করা মামলার ‘নিহত’ যুবককে জীবিত উদ্ধার করেছে পুলিশ। ঘটনাটি কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচর উপজেলায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।
উদ্ধার হওয়া যুবকের নাম মোস্তফা কামাল (২৮)। তিনি শেরপুর জেলার বাসিন্দা। তবে দীর্ঘদিন ধরে কুলিয়ারচরে তার নানাবাড়িতে বসবাস করতেন।
জানা গেছে, প্রায় দুই বছর আগে মোস্তফা কামাল নিখোঁজ হন। পরে তার মা মনোয়ারা বেগম অভিযোগ করেন, ছেলেকে অপহরণের পর হত্যা করে মরদেহ গুম করা হয়েছে। এ অভিযোগে তিনি আদালতে একটি মামলা করেন। মামলায় বাজিতপুরের ঠিকাদার জামান মিয়াকে প্রধান আসামি করা হয়। অভিযোগ ছিল, মোস্তফা কামালের সঙ্গে তার কয়েক লাখ টাকার আর্থিক লেনদেন ছিল। ওই মামলায় জামান মিয়া প্রায় চার মাস কারাগারে ছিলেন।
তদন্তের একপর্যায়ে পুলিশের সন্দেহ হলে তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে গত ৯ জুলাই রাতে গাজীপুরের গাছা থানার ডেগেরচালা এলাকায় অভিযান চালিয়ে একটি বাসা থেকে মোস্তফা কামালকে জীবিত উদ্ধার করে। পুলিশ জানায়, তিনি সেখানে রাজমিস্ত্রির কাজ করছিলেন। এ সময় তিনি বিয়ে করে নতুন সংসারও গড়ে তুলেছেন।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা উপপরিদর্শক (এসআই) মঞ্জরুল হক বলেন, ‘মোস্তফা কামালের আত্মগোপনের বিষয়টি তার পরিবারের সদস্যরা জানতেন। তবে গত দুই বছরে তারা এ তথ্য পুলিশকে জানাননি।’ তিনি আরও বলেন, ‘মোবাইল কললিস্ট পর্যালোচনায় তার পরিবার ও স্বজনদের সাথে যোগাযোগের বিষয়টি নিশ্চিত হতে পেরেছেন’ তিনি।
ঠিকাদার জামান মিয়া বলেন, ‘আমি কোনো অপরাধ না করেও চার মাস জেল খেটেছি। আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা করা হয়েছে। আমি সুষ্ঠু বিচার চাই।
এ বিষয় মোস্তফা কামালের পরিবারের সদস্যরা কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
কুলিয়ারচর থানার ওসি কাজী আরিফ উদ্দীন বলেন, ‘ঘটনাটি তদন্তাধীন। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
মন্তব্য